নালিতাবাড়ী শেরপুর প্রতিনিধি:
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরসভা চত্বরে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পরিচালিত ট্রাকসেল কার্যক্রমে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দ থাকা পণ্যের মধ্যে প্রায় ৯০ জন ভোক্তার জন্য নির্ধারিত পণ্য রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে নালিতাবাড়ী পৌরসভা চত্বরে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করছিল মেসার্স প্যারাডাইস এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ডিলার প্রতিষ্ঠান। এদিন প্রায় ৪০০ জন ভোক্তার জন্য টিসিবির পণ্য বরাদ্দ ছিল। তবে বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয় ভোক্তারা পণ্যের ঘাটতির অভিযোগ তুললে বিষয়টি সামনে আসে।
পরে উপস্থিত জনতার চাপের মুখে ট্রাকে থাকা পণ্যের হিসাব যাচাই করা হলে দেখা যায়, প্রায় ৯০ জন ভোক্তার জন্য বরাদ্দকৃত পণ্য রহস্যজনকভাবে উধাও রয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করা শতাধিক ভোক্তার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া স্বল্পমূল্যের এই পণ্য একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে নিয়মিতভাবেই গোপনে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি ট্রাকে থাকা কয়েকটি খালি তেলের কার্টন উদ্ধার করেন এবং পুরো বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দেন।
স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, টিসিবির পণ্য বিতরণের দায়িত্বে থাকা কিছু ডিলার ও অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অনিয়ম হয়ে আসছে। তাদের দাবি, প্রায় প্রতিদিনই ১০০ থেকে ১৫০ জন ভোক্তার জন্য বরাদ্দ পণ্য গায়েব হয়ে যায়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিতরণের দায়িত্বে থাকা মেসার্স প্যারাডাইস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল বাশার বলেন,
“পণ্য কম নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত আরেকটি ট্রাকে করে পণ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিতরণ কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
টিসিবির পণ্য বিতরণের বিষয়টি আমাকে ডিলার বা কেউ অবহিত করেনি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি পণ্য বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা যদি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত না থাকেন, তবে এই অনিয়মের দায়ভার কে নেবে।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান বলেন,ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া টিসিবির পণ্য নিয়ে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।