বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে ইউনেস্কো প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ সংরক্ষিত মহিলা আসনের নবনির্বাচিত এমপি নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির শপথ গ্রহণ কিশোরগঞ্জে আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ দিবস পালিত কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযান: কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ঘটনার বিচার দাবিতে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন নেত্রকোনায় পরকীয়ার জেরে ব্যবসায়ীকে হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড কাকরকান্দি ইউপি নির্বাচন ঘিরে মাঠে জনমুখী প্রচারণায় এগিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আবু শামা জাতীয় ক্রাইম সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন শেখ শাহীন কুড়িগ্রাম জেলায় বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘন্টায় ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ কিশোরগঞ্জে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস পালিত, মুক্ত সাংবাদিকতার পক্ষে জোর দাবি

শেষ ঠিকানার কারিগর আর নেই: কিশোরগঞ্জের মনু মিয়ার মর্মস্পর্শী বিদায়।

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ খ্যাত মনু মিয়া (৭৩) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই নিঃস্বার্থ মানুষটি।

জীবনের প্রায় পাঁচ দশক ধরে নিঃস্বার্থভাবে তিন হাজারের বেশি কবর খুঁড়ে গেছেন মনু মিয়া। বিনিময়ে কখনো কোনো পারিশ্রমিক নেননি। মৃতের খবর পেলেই নিজের প্রিয় ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটে যেতেন কবর খুঁড়তে। এই কর্মই ছিল তার জীবনের সাধনা।

ঘোড়ার প্রতি ছিল তার বিশেষ ভালোবাসা। এই কাজের জন্যই একসময় নিজের দোকান বিক্রি করে কিনেছিলেন প্রিয় সেই ঘোড়াটি। কিন্তু কিছুদিন আগে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় দুর্বৃত্তরা তার সেই ঘোড়াটিকে হত্যা করে। প্রিয় সঙ্গীর মৃত্যু তাকে ভীষণভাবে ভেঙে দেয় মানসিকভাবে। এরপর থেকে আর আগের মতো ফিরে আসেননি তিনি।

স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঠাকুর বলেন, “ঘোড়ার মৃত্যুর পর থেকেই মনু মিয়া ভেঙে পড়েন। তার মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন দয়ার সাগর, এক নিঃস্বার্থ মানবপ্রেমী।”

অ্যাডভোকেট শেখ মো. রোকন রেজা বলেন, “এলাকার প্রতিটি পরিবার তাকে চেনে, জানে এবং শ্রদ্ধা করে। তিনি ছিলেন একজন জীবন্ত কিংবদন্তি।”

নিরন্তর সেবার মধ্য দিয়েই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন এই সাধারণ মানুষটি। স্ত্রী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে চলে গেলেন এক নির্লোভ-নিস্বার্থ কর্মযোগী।

শনিবার আসরের নামাজের পর জয়সিদ্ধি কবরস্থান মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে সেখানেই দাফন করা হয়—যেখানে জীবনের পরতে পরতে তিনি অসংখ্য কবর খুঁড়ে দিয়েছেন।

এই মৃত্যুতে গোটা এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মানুষ আজ কাঁদছে একজন নিরবে কাজ করে যাওয়া আলোর মানুষকে হারিয়ে। মনু মিয়ার মতো নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগী মানুষ আজ সমাজে বিরল। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর