বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জে যুবদলের আনন্দ মিছিল, নেতাকর্মীদের উৎসবমুখর অংশগ্রহণ অপরাধের স্বর্গ রাজ্য বন্দর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি নিয়ে প্রস্ন জনমনে নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশনের বর্জ ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত ট্রাক চাপায় ছাএদল ও যুবদলের দুই নেতার মৃত্যু নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার গৃহ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেবিদ্বারের ১৫২ শিক্ষার্থীর জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন, উপহার দিলেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নেত্রকোনায় পাসপোর্ট করতে এসে আটক রোহিঙ্গা যুবক মুরাদনগরে অনুমোদনহীন ও খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার, দুই প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ​নেত্রকোনায় মধ্যরাতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা: স্বামী-সন্তান আশঙ্কাজনক, ঘাতক আটক। মামলা নিতে ঘুষ দাবির অভিযোগে থানায় ঘেরাও স্বজনদের

অপরাধের স্বর্গ রাজ্য বন্দর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি নিয়ে প্রস্ন জনমনে

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৩৬ বার দেখা হয়েছে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :-

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। একের পর এক খুনের ঘটনা, লাগামহীন দস্যুতা, চাঁদাবাজি এবং মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবন এখন ওষ্ঠাগত। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের চরম অপেশাদারত্ব, নিষ্ক্রিয়তা এবং বিশেষ বিশেষ মহলের প্রতি ‘তাবেদারি’ মনোভাবের কারণেই অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে বন্দর এলাকা এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সবচেয়ে বড় ক্ষোভের জায়গা হলো থানা পুলিশের খামখেয়ালিপনা। কোনো অপরাধের শিকার হয়ে সাধারণ মানুষ থানায় গেলে সহজে মামলা নেওয়া হয় না। মামলা রুজু করার ক্ষেত্রে প্রায়শই পুলিশের পক্ষ থেকে গড়িমসি করা হয় এবং অনেক সময় ‘বিশেষ মহলের’ বা প্রভাবশালী মহলের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করা হয়। ফলে অপরাধের শিকার হয়েও সাধারণ মানুষ আইনি প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সিসি টিভি বিশ্লেষণ করলে দেখাযাবে বন্দর থানা এলাকার চিহ্নিত অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী এবং চাঁদাবাজদের গডফাদাররা নিয়মিত থানায় যাতায়াত করে। নাগরিক হিসাবে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টেও আমরা এসব দেখতে পাই। অপরাধীদের এসব পৃষ্ঠপোষকরাই এখন থানার প্রধান ‘তদবিরকারী’ হিসেবে পরিচিত। পুলিশের কর্তাদের সাথে অপরাধীদের এই প্রকাশ্য ‘দহরম-মহরম’ সম্পর্কের কারণে সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছে। তথ্য দিলে উল্টো হেনস্থার শিকার হতে হয় বলে আশঙ্কা করা যায়।

বন্দর এলাকার অলিতে-গলিতে এখন মাদকের মেলা। কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে চিহ্নিত অপরাধী চক্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে মাদক। অথচ এই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো অভিযান নেই বললেই চলে। মাঝেমধ্যে দু-একজন চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে দিন দিন মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রবণতা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

গত কয়েক মাসে বন্দর থানা এলাকায় একের পর এক লোমহর্ষক খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী—কেউই এখন নিরাপদ বোধ করছেন না। সন্ধ্যা নামলেই বন্দর এলাকার কিছু কিছু সড়ক যেন অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

একটি স্বাধীন ও পেশাদার পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে নাগরিকরা যে সেবা আশা করে, বন্দর থানা পুলিশের বর্তমান কর্মকাণ্ড তার সম্পূর্ণ বিপরীত। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে এই ‘তাবেদারি ও অপেশাদারী’ মনোভাব পরিহার করে অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বন্দরবাসী।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর