গ্রাম পুলিশের মানবেতর জীবন: ন্যায্য বেতন ও

মো: আল আমিন
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

তৃণমূল পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও মানবেতর জীবন যাপন করছেন দেশের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। স্বল্প বেতন, অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও দায়িত্বের অতিরিক্ত চাপ তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তিসহ ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তার প্রথম স্তরের বাহিনী দফাদার ও মহল্লাদাররা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাদের বেতন যথাক্রমে প্রায় ৮,০০০ ও ৭,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে পরিবার নিয়ে টিকে থাকা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। অনেকেই বলেন, দিনমজুরের আয়ের চেয়েও কম টাকায় তাদের সংসার চলতে গিয়ে প্রতিদিনই সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

একজন দফাদার আলতাফ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সরকারি লোক, সরকারি কাজ করি। কিন্তু বেতনের বেলায় আমাদের কোনো মূল্য নেই। এই টাকায় কীভাবে সংসার চলবে?”

স্বল্প বেতনের পাশাপাশি তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কর্মঘণ্টার অনিশ্চয়তা। নির্দিষ্ট ডিউটি সময় না থাকায় যেকোনো সময়ই অফিসার বা প্রশাসনের ডাকে সাড়া দিতে হয়। সরকারি অনুষ্ঠান, জরুরি পরিস্থিতি কিংবা প্রশাসনের তলব—সব ক্ষেত্রেই তাদের তাৎক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হয়। এতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে চরম সংকট দেখা দিচ্ছে।

গ্রাম পুলিশের দীর্ঘদিনের প্রধান দাবি—
১. জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি: দফাদারদের ১৯তম গ্রেড ও মহল্লাদারদের ২০তম গ্রেডে স্থান দেওয়া।
২. নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও দায়িত্বের সীমানা নির্ধারণ।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট দফাদারদের ১৯তম এবং মহল্লাদারদের ২০তম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেন এবং তা ২০১১ সালের ২ জুন থেকে কার্যকর করার কথা বলেন। কিন্তু সরকারের আপিলের কারণে রায় বাস্তবায়ন এখনও ঝুলে আছে।

গ্রাম পুলিশ সদস্যরা মনে করেন, দেশের তৃণমূল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সুবিধার ক্ষেত্রে এখনো চরম অবহেলার শিকার। তাদের ভাষ্য, ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন হলে শুধু তাদের জীবনমানই উন্নত হবে না, বরং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

তারা সরকারের কাছে হাইকোর্টের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন।