ঢাকা-১৫ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আজ ২১ জানুয়ারি (বুধবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে তাঁর নামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রতীক বরাদ্দ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন। প্রতীক বরাদ্দের পর এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এডভোকেট জুবায়ের বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে আমাদের সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে নির্বাচন কমিশন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। রিটার্নিং অফিসার প্রদত্ত এই প্রতীক আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছি। এ উপলক্ষে দেশবাসীকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন ঢাকা-১৩ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের স্বার্থে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হকের পক্ষে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৫ আসনের আসন পরিচালক জনাব আবদুর রহমান মুসা, সদস্যসচিব জনাব তুহিন এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি জনাব লস্কর মো. তসলিমসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এডভোকেট জুবায়ের বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সংস্কার প্রস্তাবের আইনি ভিত্তি তৈরি হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে তা বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।”

তিনি দেশবাসী ও প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।”

নির্বাচনী সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিভিন্ন এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকালও ঢাকা-১৫ আসনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।”

তিনি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

এডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, “২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জনগণ প্রকৃতভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। এবারের নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সকল প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং দেশবাসী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।