লিড (সংক্ষেপ):
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) পরিবহন খাতে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। কাগজে-কলমে একটি টিম বাসের ভাড়া দেখানো হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা, অথচ বাস্তবে সেই ভাড়া ৩০ থেকে ৩১ হাজার টাকার বেশি নয়—এমন তথ্য মিলেছে অনুসন্ধানে।
প্রতিবেদন:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোনারগাঁও হোটেল থেকে মিরপুর স্টেডিয়াম পর্যন্ত সারাদিনের জন্য বাস ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত অর্থ দেখানো হচ্ছে নিয়মিতভাবে। বিষয়টি প্রথম নজরে আসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাজমুল ইসলামের কাছে। তিনি ভাড়ার অঙ্ককে অস্বাভাবিক মনে করে খোঁজ নিলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তদন্তে দেখা যায়, বিসিবিকে যে বাসগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই সরাসরি বাস মালিকদের কাছ থেকে নয়। বরং মধ্যস্বত্বভোগী বা এজেন্টদের মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এসব এজেন্টের নিজস্ব কোনো বাস নেই; তারা বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানি বা মালিকের কাছ থেকে বাস নিয়ে বিসিবিতে সরবরাহ করে এবং ভাড়ার ওপর বড় অঙ্কের কমিশন যোগ করে।
এই প্রক্রিয়ায় উঠে আসে ‘দেশ ট্রাভেলস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। দেশ ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা সরাসরি বিসিবিকে কোনো গাড়ি সরবরাহ করে না। তারা এজেন্টদের কাছে সাব-কন্ট্রাক্টিং পার্টি হিসেবে গাড়ি দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর নাজমুল ইসলাম তার ইনচার্জকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন—দেশ ট্রাভেলস সংশ্লিষ্ট সব বিল তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত রাখার জন্য।
উপসংহার:
এই ঘটনায় বিসিবির পরিবহন ব্যবস্থাপনায় ভয়ংকর নোংরা দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—এই অতিরিক্ত অর্থ কারা ভাগ করে নিচ্ছে এবং এতদিন বিষয়টি কীভাবে অগোচরে থেকে গেল?