বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে বগুড়া ও শেরপুর—এই দুটি আসনে আজ যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে ভোট কারচুপি, জালভোট, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, সকালেই সিটে স্বাক্ষর নেওয়াসহ একাধিক গুরুতর ও আপত্তিকর ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় পক্ষ থেকে এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রিজাইডিং অফিসারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দলীয় সন্ত্রাসীরা দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিওও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা ভোটার নয়—এমন একজনকে ভোট দিতে দেখা গেছে। সাংবাদিকরা তার বয়স ও জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে সে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পরও কীভাবে সেখানে ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকতে পারে?

গোলাম পরওয়ার ভোটার ও এজেন্টদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে সন্ত্রাসী ও পেটোয়া বাহিনীর তৎপরতায় এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বগুড়া ও শেরপুরের সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এটিএম মা’ছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার