হজ্জ হচ্ছে ইবাদাতে বাদানিয়্যাহ ও ইবাদাততে মালিয়্যাহ অর্থাৎ যাকে আমরা বলে থাকি শারিরীক আর্থিক ইবাদত। যাদের হজ্জ করার সামর্থ্য আছে তাঁদের উপর জীবনে একবার হলেও পবিত্র হজ্বব্রত পালন করা ফরজে আইন।
আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন, “মানুষের মধ্যে যারা বায়তুল্লাহ্য় যাওয়ার সামর্থ্য আছে তার জন্য আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে হজ্জ করা অবশ্য কর্তব্য”।
হজ্জ এর আভিধানিক অর্থ : বড় কোন বিষয় সম্পাদনের সংকল্প করা।আর পারিভাষিক সজ্ঞায়িত শরিয়তের পরিভাষায় হজ্জ হচ্ছে, নির্দিষ্ট স্থান, নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কার্য্যবলী সম্পাদনের দিঢ় সংকল্প পোষণ করা।
আমাদের নবী ও রাসুলুল্লাহ সাঃ হিজরতের পূর্বে কতবার হজ্জ করেছেন এই আলোচ্য বিষয়ে উম্মতের মতানৈক্য রয়েছে ও সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) এর বিভিন্ন রেওয়াতে যা জানা যায়। যার সঠিক সংখ্যা আমাদের জানা নেই।
হজ্জ যে সালে ফরজ হয়েছে এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থে একাধিক মতামত ও অভিমত রয়েছে মোল্লা আলী কারী (রহঃ) শরহে নিকায়াহতে লিখেছেন রাসুলে করিম (সাঃ) দশম হিজরিতে ফরজ হজ্জব্রত পালন করেন যা বিদায় হজ্জ নামে পরিচিত। হযরত আবু বকর (রাঃ) নবম হিজরীতে পবিত্র হজ্জ আদায় করেন, এবছরেই পবিত্র হজ্জ ফরজ হয়েছিল।
অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয় সুবাদে হযরত ইতাব ইবনে উসায়দ (রাঃ) লোকদেরকে হজ্জ করিয়েছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মক্কা বিজয়ের পর তাঁকেই মক্কার শাসককর্তা নিয়োগ করেছিলেন।

এক হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন “প্রত্যেক নবী (আঃ) রাই বায়তুল্লাহর হজ্জ করেছেন”তিনি পবিত্র যবানে আরো উল্লেখ করছেন হযরত “আদম (আঃ) হিন্দুস্তান থেকে পায়ে হেঁটে ৪০ বার হজ্জব্রত পালন করেন”। হযরত জিবরাইল (আঃ) হযরত আদম (আঃ) কে বলেছিলেন,আপনার সাত হাজার বছর পূর্ব থেকে ফেরেশতাগণ বায়তুল্লাহর তওয়াফ করে আসছেন।

নবী করিম (সাঃ) বলেছেন “বায়তুল্লাহ্ র হজ্জ করার মতো পাথেয় ও যানবাহন আছে অথচ হজ্জ পালন করলো না সে ইহুদি কিংবা খৃষ্টান হয়ে মারা গেল কিনা তা বলা যায় না”।( তিরমিযী)
এরূপ সতর্কতাপূর্ণ বাণী দানের মূলে রয়েছে আল্লাহর দ্ব্যর্থহীন নির্দেশ “মানুষের মধ্যে যারা বায়তুল্লাহ্য় যাওয়ার সামর্থ্য আছে তার জন্য আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশ্যে হজ্জ করা অবশ্য কর্তব্য”।(আলে ইমরান:৯৭)
আমিরুল মুমিনিন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন আমার ইচ্ছে হয়, দেশের বিভিন্ন শহরে কিছু লোক পাঠাই এবং তারা গিয়ে দেখুক যে কারা সামর্থ্য থাকতেও হজ্জ আদায় করছে না, অতপর তারা তাদের উপর জিযিয়া কর ধার্য করে দিক।প্রকৃতপক্ষে তারা মুসলমান নয়। (সায়ীদ ইবনে মানদূর দুনানে বর্ণনা করেছেন)
পরিশেষে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ইসলামের পাঁচ স্তব্যকে জীবনাদর্শে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে মেনে চলার তৌফিক কামনা করি।