স্টাফ রিপোর্টার মোঃ শাহিনুর ইসলাম শাহিন

​ ৬ মে, ২০২৬
​কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে কিশোর অপরাধের লাগাম টানতে এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে বিশেষ অভিযানে নেমেছে জেলা পুলিশ। মূলত রাতের বেলায় শিক্ষার্থীদের অহেতুক আড্ডা বন্ধ এবং তাদের মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো মরণব্যাধি থেকে দূরে রাখাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
​পুলিশ জানায়, ইদানীং শহরের বিভিন্ন অলিগলি, বিশেষ করে লেকের পাড় ও নির্জন স্থানগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আড্ডা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নবম-দশম থেকে শুরু করে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা, যাদের বয়স সাধারণত ২০ বছরের আশেপাশে, তারাই এই অভিযানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। প্রশাসনের মতে, এই বয়সটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পড়াশোনা বাদ দিয়ে নির্জন স্থানে আড্ডা দেওয়া অনেক সময় তাদের মাদকাসক্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত করে।

​গতকাল রাতে পরিচালিত এই অভিযানে বেশ কিছু শিক্ষার্থী ও অহেতুক ঘুরে বেড়ানো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সন্দেহজনক ও অপ্রয়োজনীয় আড্ডায় লিপ্ত থাকা ব্যক্তিদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে:
​জরুরি সেবা: চিকিৎসা, প্রাইভেট পড়া বা কোনো যৌক্তিক কারণে বাইরে থাকা ব্যক্তিরা এই অভিযানের আওতামুক্ত ছিলেন।
​অভিভাবকদের ডাক: আটককৃতদের সরাসরি শাস্তি না দিয়ে তাদের অভিভাবকদের থানায় ডাকা হয়।
​মুচলেকা: ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যকলাপে না জড়ানোর অঙ্গীকার করে অভিভাবকরা মুচলেকা দিয়ে সন্তানদের ছাড়িয়ে নেন।

​রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় উপস্থিত হয়ে আটককৃত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন জেলা পুলিশ সুপার। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, “সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে—তা তদারকি করার দায়িত্ব পরিবারের। সন্তানের সাফল্যই একদিন বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

​পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিক ও সচেতন অভিভাবকরা। তারা মনে করছেন, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমাতে এ ধরনের অভিযান সময়োপযোগী। রাত ১২টার পর সকল অভিভাবক থানায় উপস্থিত হয়ে তাদের সন্তানদের বুঝে নেন এবং প্রশাসনের এই কড়াকড়িকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেন।