শেরপুর জেলা প্রতিনিধি প্রতিনিধি:

ভারত সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জেলা শেরপুরের বন্যহাতি উপদ্রুত এলাকায় মানুষ ও বন্যহাতির সংঘাত কমিয়ে জানমাল রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কের মহুয়া রেস্ট হাউজ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বন বিভাগের প্রতিনিধি, পরিবেশবিদ, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন এলায়েন্সের কমিউনিটি গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট আবরার আহমাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদা ইয়াসমিন, কাজী নুরুল করিম, ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এবং বন্যহাতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনির।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক সাদেক আলী খান, রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান লিটন, ইউনুস আলী দেওয়ান, এম এ রায়হানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বন বিভাগের সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সেমিনারে বন্যহাতির চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে গহীন বনাঞ্চলে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তিনির্ভর আর্লি ডিটেকশন ডিভাইস (স্মার্ট ক্যামেরা) স্থাপনের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কার্যকর সুপারিশ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি হাতির চলাচলের নিরাপদ করিডোর সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বন বিভাগের সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বলেন, “বন্যহাতি প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। মানুষ ও বন্যহাতির নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। প্রথম পর্যায়ে নালিতাবাড়ীর বন্যহাতি উপদ্রুত এলাকায় এআই প্রযুক্তিনির্ভর ১৫টি আর্লি ডিটেকশন ডিভাইস স্থাপন করা হবে। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে হাতির গতিবিধি আগাম শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করা সম্ভব হবে। এতে মানুষের প্রাণহানি ও ফসলসহ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা যাবে বলে আমরা আশাবাদী।

বক্তারা বলেন, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারই নয়, বন্যহাতির আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন উজাড় রোধ, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই মানুষ ও বন্যহাতির সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও সচেতনতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

সেমিনার শেষে বন্যহাতি উপদ্রুত এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু, আগাম সতর্কীকরণ কার্যক্রম জোরদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।