নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা চত্বরে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে স্থানীয় এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে থানার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার এড়াতে ও এলাকাবাসীর হাত থেকে বাঁচতে ‘রমজান’ নামের ওই মাদক ব্যবসায়ী এই অভিনব নাটকের আশ্রয় নিয়েছে। পরে থানা পুলিশ তাকে শান্ত করে হেফাজতে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে হঠাৎ করেই বন্দর থানার প্রধান ফটকের সামনে এসে চিৎকার শুরু করে রমজান। একপর্যায়ে সে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় এবং বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে থাকে, সে এখন ভালো হয়ে গেছে এবং রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। মাদক ছেড়ে দেওয়ায় প্রতিপক্ষ ‘দুলাল’-এর লোকজন তাকে হত্যা করতে চায় বলে সে দাবি করে। এ সময় সে ওসির উদ্দেশে চিৎকার করে বলে, “ওদের কাছে মইরা লাভ নাই স্যার, আপনার কাছে আমারে মরণ দেন। আমার দুইটা সংসার আছে, আমারে বাঁচান।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার নেপথ্য চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্দর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইস্পাহানী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছিল এই রমজান। তার মাদক কারবারের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি মাদকবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। সে সময় ইস্পাহানী এলাকায় অবস্থিত রমজানের মাদকের আস্তানা ও গ্যারেজটি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। একই সাথে মাদক ব্যবসায়ী রমজানকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে এলাকাবাসী। এলাকায় প্রবেশ করলে তাকে প্রতিহত করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এরপর থেকেই নিজেকে রক্ষা করতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিতে শুরু করে রমজান। কিছুদিন আগে রাস্তায় সিজদারত অবস্থায় ‘ভালো মানুষ’ সাজার নাটক করে সে। এছাড়া স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আবেদন জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি লিখিত দরখাস্তও জমা দেয়।
স্থানীয় মুসল্লি ও যুবসমাজের দাবি, গতকাল মঙ্গলবার ইস্পাহানী এলাকায় গিয়ে সে আবারও ভালো হওয়ার ভান করে। কিন্তু পর্দার আড়ালে অন্যান্য মাদক কারবারিদের সাথে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সখ্যতা হাতেনাতে ধরে ফেলে এলাকাবাসী। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা তাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিলে নিজের অপরাধ ঢাকতে ও পুলিশি সহানুভূতি পেতে বুধবার দুপুরে থানায় গিয়ে সে এই আত্মহত্যার নাটক সাজায়।
এ বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশ জানায়, শরীরে কেরোসিন ঢালার চেষ্টা চালালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্যরা তাকে হেফাজতে নেয়। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সে আসলেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়, নাকি অপরাধ আড়াল করতে এই নাটক সাজিয়েছে তা তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি/ নাজমুল খন্দকার আবির