কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি/ মোঃ আল আমিন

ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার রোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় ‘মশার বিস্তার রোধ করি, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি’ শীর্ষক এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

অভিযানে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিডিএলজি ও স্থানীয় সরকার উপসচিব জেবুন নাহার শাম্মী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ, সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইদুর রহমান, এডিসি রেভিনিউ, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এছাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এরশাদ, বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিলু, সাবেক কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম আরজুসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানের অংশ হিসেবে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ও অপরিচ্ছন্ন স্থান চিহ্নিত করে পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ড্রেন ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।

কর্মসূচিতে বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন স্থাপনা এবং অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ বা পৌরসভার একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নগরবাসীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ প্রয়োজন। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যাবে। এজন্য প্রশাসন, পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগ, ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।