ফরহাদ হোসেন রাজ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি ফেসবুক পেজে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় উভয় পক্ষের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, অপরাধ দমনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কথাও উঠে এসেছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই ভৈরব থানায় যোগদানের পর থেকে অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছেন ওসি মাহবুবুর রহমান। তাঁর সময়ে বিভিন্ন মামলায় প্রায় ৪৫০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার এবং দেড় শতাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া একাধিকবার ১০ থেকে ১২ কেজি গাঁজার চালান ও বড় ইয়াবার চালান জব্দ, আলোচিত মিরাজ ডাকাত ও দুর্ধর্ষ আনার ডাকাতকে গ্রেপ্তারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভৈরবের ছিনতাই চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত আঙ্গুর ও ল্যাংড়া ফজলুকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার দাবি করা হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে শতাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার রেকর্ড রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কমলপুরের সংঘর্ষ ও ঘুষের অভিযোগ
সম্প্রতি ভৈরব পৌর এলাকার কমলপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ওসির বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ঘুষ গ্রহণ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে কয়েকটি ফেসবুক পেজে পোস্ট প্রকাশ করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর কমলপুর এলাকায় মনির কন্ট্রাক্টর ও মোরশেদ মিয়ার মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে উভয় পক্ষকে শান্ত করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে একটি পক্ষ কিশোরগঞ্জের আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করে। এ বিষয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবু ইউসুফ সালাউদ্দিন আহমেদ রুবেল জানান, কমলপুরের ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।
ঘুষ গ্রহণ করে মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য, উভয় পক্ষই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তবে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার ওসির
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমি যোগদানের পর থেকে ভৈরবে অপরাধ নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছি। এরপর থেকে একটি কুচক্রী মহল ও অপরাধী সিন্ডিকেট আমার পেছনে উঠে-পড়ে লেগেছে। তবে অপরাধ দমনে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
তিনি আরও বলেন, থানায় এসে অভিযোগ জানালে আইন অনুযায়ী মামলা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অপরাধ কমার দাবি স্থানীয়দের
ভৈরবের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওসি মাহবুবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর চুরি ও ছিনতাই কমেছে বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁদের ভাষ্য, আগের তুলনায় চলাফেরা স্বস্তিদায়ক হয়েছে এবং রাতেও চলাচলে ভয় কমেছে।
তবে ভৈরবে অপরাধের হার কতটা কমেছে, তা নির্ধারণে আগের ও বর্তমান সময়ের অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ—দুটিই যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণই পারে জনমনে আস্থা বজায় রাখতে।