পবিত্র কুরআন ও হাদিসে ইফতারের সময়কে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময় বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সুযোগ থাকে। তবে “একটি নির্দিষ্ট দোয়া পড়লেই সারাজীবনের সব গোনাহ মাফ হয়ে যাবে”—এমন সরাসরি কোনো আয়াত কুরআনে উল্লেখ নেই। বরং কুরআন আমাদেরকে তওবা, ইস্তেগফার ও আন্তরিক দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দেয়।
কুরআনের নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গোনাহ ক্ষমা করেন।”
— (সূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, যেকোনো সময় আন্তরিক তওবা করলে আল্লাহ গোনাহ মাফ করতে পারেন—বিশেষ করে ইফতারের মতো বরকতময় সময়ে।
ইফতারের সময়ের দোয়া
হাদিসে ইফতারের সময় এই দোয়াটি পড়ার কথা এসেছে:
اللهم لك صمت وعلى رزقك أفطرت
উচ্চারণ: Allahumma laka sumtu wa ‘ala rizqika aftartu
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিযিক দিয়ে ইফতার করছি।
আরেকটি প্রসিদ্ধ দোয়া:
ذهب الظمأ وابتلت العروق وثبت الأجر إن شاء الله
উচ্চারণ: Zahabaz-zama’u wabtallatil ‘urooq wa thabatal ajru inshaAllah
অর্থ: পিপাসা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ সওয়াব নিশ্চিত হয়েছে।
গোনাহ মাফের আসল শর্ত
ইসলামে গোনাহ মাফের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে:
আন্তরিক তওবা করা
গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া
ভবিষ্যতে সেই গোনাহ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা
মানুষের হক নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া
উপসংহার
ইফতারের সময় দোয়া অবশ্যই কবুলের অন্যতম সেরা সময়। কিন্তু শুধু একটি নির্দিষ্ট দোয়া পড়লেই সারাজীবনের সব গোনাহ মাফ হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং কুরআন এর শিক্ষা অনুযায়ী, আন্তরিক তওবা, ইস্তেগফার এবং আল্লাহর কাছে বারবার ক্ষমা প্রার্থনাই গোনাহ মাফের প্রকৃত পথ।
তাই ইফতারের সময় বেশি বেশি দোয়া করুন, ইস্তেগফার পড়ুন এবং আল্লাহর রহমতের আশা রাখুন।