কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
দেশব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে কিশোরগঞ্জ জেলাতেও তেল সংগ্রহে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাইকার ও পরিবহন চালকরা। বিভিন্ন তেল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানি না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাদের।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনতে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন চালু করে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা, যা ইতোমধ্যে সাধারণ চালকদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
গত ১ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ এপ্রিল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক চালক কার্ড সংগ্রহ করতে না পারায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে প্রশাসন। ফলে ৫ এপ্রিল নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ফুয়েল কার্ডের আবেদন ও বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুনায়েদ সাকি ও পলাশ রায়হান জানান, প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সুশৃঙ্খলভাবে ফুয়েল কার্ড প্রদান করা হচ্ছে এবং নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
তারা আরও জানান, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এর ফটোকপি ও ছবি জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আবেদনকারীদের সুবিধার্থে এখন ড্রাইভিং লাইসেন্সের পাশাপাশি লার্নার লাইসেন্সের আবেদন কপিও গ্রহণ করা হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে দেখা গেছে, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের তুলনায় শৃঙ্খলা বেড়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমেছে এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। কার্ডধারীরা নির্ধারিত নিয়মে দ্রুত সময়ের মধ্যেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন।
ফুয়েল কার্ডধারী চালকদের ভাষ্য, আগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক সময় তেল পাওয়া যেত না। এখন কার্ড থাকায় সহজেই অল্প সময়ের মধ্যে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় স্বস্তি।
সচেতন মহল মনে করছে, চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে সকল চালককে দ্রুত ফুয়েল কার্ড সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।