রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী রাখা প্রয়োজন। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করে সেখানে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি বলেন, সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য এবং ফুটপাত পথচারীদের ব্যবহারের জন্য। কিন্তু সামাজিক শৃঙ্খলার অভাবে এসব স্থানে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ রাজধানীতে এসে ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাদের অনেককে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা দিতে হয়। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করে ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
ঢাকা-১৫ আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, নির্বাচনের আগে এ সমস্যার টেকসই ও সমন্বিত সমাধানের কথা বলা হয়েছিল। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ করা হলে তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারবেন এবং সিটি করপোরেশনও নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব পাবে। তবে কোনোভাবেই চাঁদাবাজি মেনে নেওয়া হবে না।
মিরপুর এলাকায় সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পরিদর্শন শেষে সবাইকে শান্ত ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দখলদারি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি পরিচ্ছন্ন, মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।