শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের ছেলেকে ছুরিকাঘাত, হাসপাতালে ভর্তি কিশোরগঞ্জে গবাদিপশুর চিকিৎসায় বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে ১১৭০ পিস ইয়াবাসহ তিনজন আটক, একজনের বিরুদ্ধে ২০ মামলা অজ্ঞাত লাশের পরিচয় পেতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাইল কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশ, মানবিকতায় প্রশংসিত পুলিশ সদস্যরা নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সং’ঘর্ষে আ’হত পুলিশ সদস্য, আ’টক গাজীপুরে পুলিশের গুলিতে ১০ বছরের শিশু সামি নামে স্কুল শিক্ষার্থী আহত, বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ! রৌমারীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজা-অ্যালকোহলসহ যুবক আটক, ৬ মাসের কারাদণ্ড আওয়ামী লীগের মতো এবার আন্দোলন দমনে লাঠি হাতে বিএনপি? কিশোরগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, দুই সংগঠনকে সনদ ও ৩ লাখ টাকা ঋণ প্রদান রৌমারীতে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের এক মাসের কারাদণ্ড

অসহায় দুই বৃদ্ধার ঘর নেই, মানবেতর জীবন কাটছে বৃষ্টির পানি আর দুঃখ সঙ্গী করে।

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৫ বার দেখা হয়েছে

তামিম আহমেদ, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

“ছবি তুল্লে কী অইবো? বৃষ্টি আইলেই তো ঘরের ভিতরে পানি পড়ে। কত কষ্টে আছি, কেউ দেখে না!”—হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে এমন কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের জয়নুদ্দিনপাড়া গ্রামের বিধবা আবেদা খাতুন।

অশ্রুসজল চোখে একখানা মাথা গোঁজার ঠাঁই চেয়ে তিনি আরও বলেন, একটা ঘর পাইলেই শেষ বয়সটা কয়ডা দিন শান্তিতে থাকতাম, মরার আগে শান্তি পাইতাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে একসময় ছিল আবেদার সংসার। সকলকেই বিয়ে দিয়েছেন তিনি। একমাত্র ছেলের সংসার চলছে চরম সংকটের মধ্যে—স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে তার জীবনও টানাপোড়েনে। ছেলে মাটি কাটার কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। বৃদ্ধা মায়ের জন্য ভাতের খরচ জোগালেও ঘর করে দেওয়ার সামর্থ্য তার নেই।

গত বুধবার সরেজমিনে আবেদার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটুকরো কম্বলে মোড়ানো ভাঙাচোরা ঝুপড়িঘর, যেখানে বসবাস করছেন এই বৃদ্ধা। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভিতর পানি জমে কাঁদা হয়ে যায়। আর অতিবৃষ্টি হলে সেখানে থাকা যায় না মোটেও।
স্থানীয়রা জানান, আবেদা খাতুন একজন সত্যিকারের অসহায় মানুষ। নতুন ঘর নির্মাণের কোনও সামর্থ্য তার নেই। একটি বাসযোগ্য ঘর পেলে তার কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হতো বলে মনে করেন প্রতিবেশীরা।

আবেদা খাতুনের মতোই মানবেতর জীবন পার করছেন একই ইউনিয়নের পূর্ব গেরাপচা গ্রামের শয্যাশায়ী বৃদ্ধা শহর ভানু। বুধবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বিছানায় পড়ে আছেন তিনি। সেই ঘরের ছাউনি ভাঙাচোরা, টিনে ধরে গেছে জং। যেন আর ভাঙারও কিছু অবশিষ্ট নেই। তার চাহনিতে ফুটে উঠছিল একটি ঘরের জন্য অসহায় আকুতি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শহর ভানুর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। একজন ছেলে দিনমজুর, অপরজন বাজারে বাজারে ভিক্ষা করে। মেয়ে দু’জনের বিয়ে হয়েছে। দিনমজুর ছেলের রোজগারেই কোনোরকমে খাওয়া-পরার ব্যবস্থা হয়, কিন্তু ঘর তৈরির মতো সামর্থ্য একেবারেই নেই।

এই দুই পরিবারে বেঁচে থাকার লড়াই যেন শুধুই বৃষ্টি ঠেকিয়ে টিকে থাকার সংগ্রাম। এলাকাবাসীর দাবি, এই অসহায়দের জন্য সরকারিভাবে জরুরি ভিত্তিতে ঘরের ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি সাংবাদিক দের বলেন,”বৃদ্ধা আবেদা খাতুন ও শহর ভানুর বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর