ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৬: রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। নেতারা দাবি করেন, সরকারের গত ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে জনভোগান্তি বেড়েছে।
নেতারা আরও অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হওয়া এবং বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠনের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগও তুলে ধরেন তারা।

বৈঠক থেকে জানানো হয়, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সূচনা হবে রাজধানীতে জনসমাবেশের মাধ্যমে। লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে সারাদেশে ধারাবাহিকভাবে লংমার্চ কর্মসূচি পালনের কথাও জানান নেতারা।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর, সংবিধান সংস্কার এবং দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকটসহ জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সরকার এসব দাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।