রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালেমাখচিত পতাকা হাতে নকলায় ছাত্র-জনতার বর্ণাঢ্য মিছিল দানাপাটুলি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জে শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে শুরু হলো ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ কার্যক্রম নালিতাবাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে ১১৯ বোতল ভারতীয় বিদেশি মদ উদ্ধার নেত্রকোনায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের আসর থেকে ১৫ জুয়াড়ি আটক, নগদ টাকা ও গাড়ি জব্দ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদ সফরে ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম হাওরে মাছ ধরা নিষিদ্ধে অভিযান, প্রায় ১৫টি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নারী চিকিৎসক হেনস্তার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবিতে চাঞ্চল্য হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের স্মারকলিপি প্রদান সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ

প্রেমিক থেকে বিচ্ছিন্ন করে সিলেটের তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯০ বার দেখা হয়েছে

ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা সিলেটের এক তরুণীকে পরিকল্পিতভাবে প্রেমিকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ আদায়ের চেষ্টা ও প্রতারণার মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পক্ষ।

ঘটনাটি ঘটেছে মনপুরা উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা স্লুইসগেট এলাকায়।

এ ঘটনায় আল-আমীন, মাকসুদ, ইদ্রিস মাঝি, লোকমান ফরাজি ও শাহিন—এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকা থেকে মনপুরার রামনেওয়াজ ঘাটে পৌঁছান সাদিয়া। পরে তার প্রেমিক সজিব তাকে তার দাদির বাড়িতে নিয়ে যান। সজিব উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাসেলের ছেলে।

পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সজিব সাদিয়াকে তালতলা স্লুইসগেট এলাকায় তার চাচার বাড়িতে নিয়ে গেলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা বিয়ের কথা বলে সজিবের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং দুই লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে পুলিশে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বিয়ের ব্যবস্থা হবে—এই আশ্বাসে সজিবের দাদি অভিযুক্ত ইদ্রিস মাঝিকে চার হাজার টাকা দেন।

সজিবের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইদ্রিস মাঝি বিয়ের কথা বলে তাদের বাড়ি থেকে বের করেন। পরে ‘নৌবাহিনী আসছে’ বলে ভয় দেখিয়ে তাকে নতুন বেড়িবাঁধের ওপারে নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া আল-আমীন, ইদ্রিস মাঝি, লোকমান ও শাহিন তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে সজিব পালিয়ে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তা চাইলে অভিযুক্তরা সাদিয়াকে জোর করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, ওই রাতেই সাদিয়াকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে এক যুবক “আমার বউকে বাঁচান” বলে চিৎকার করলে তারা ঘটনাস্থলের খোঁজ শুরু করেন। পরে একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে সেটি অভিযুক্ত আল-আমীনের বলে জানা যায়। কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত শাহিন সাদিয়াকে একটি বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে সাদিয়া জানান, আল-আমীন ও লোকমান তাকে ধর্ষণ করেছে এবং ঘটনার সময় ইদ্রিস মাঝি সেখানে উপস্থিত ছিল।

মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় শুরু থেকেই ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর