নিউজ নগর | আবুল বশার
বাংলা লোকসংস্কৃতিতে গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দীর্ঘদিনের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গুণীশিল্পী সম্মাননা অর্জন করেছেন বিশিষ্ট বাউলশিল্পী মোসাঃ ছালমা বেগম। দেশের খ্যাতিমান লোকসংগীতশিল্পী মুজিব পরদেশী-এর হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ স্বরলিপি সাংস্কৃতিক সংগঠন, এটিএন বাংলা, দৈনিক সমাচার পত্রিকা এবং প্যারিস-ফ্রান্সভিত্তিক একটি সাংস্কৃতিক সংস্থার যৌথ আয়োজনে গত ২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার কচি-কাঁচা মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেশের প্রবীণ ও বরেণ্য সংগীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার এবং চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
লোকসংগীতের অঙ্গনে সুপরিচিত মুখ বাউল ছালমা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতি, সমাজসেবা এবং নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বাংলাদেশ বেতার বরিশাল কেন্দ্রের নিয়মিত বাউল কণ্ঠশিল্পী হিসেবে শ্রোতাদের কাছে সমাদৃত।
তার উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে—নিজ এলাকার জনপ্রিয় নারী ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পী ও নির্বাহী সদস্য পদে দায়িত্ব, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কাজ এবং বাংলাদেশ জাতীয় বাউল সমিতি-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে সম্পৃক্ততা।
এছাড়া তিনি নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বাউল ছালমা শিল্পীগোষ্ঠী’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। সমাজ উন্নয়ন ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের জন্য উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে “শ্রেষ্ঠ জয়িতা” সম্মাননাও অর্জন করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে “কলস” প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। সীমিত প্রচারণা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন।
সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বাউল ছালমা বলেন,
“আমি নিতান্তই পল্লি থেকে উঠে আসা একজন সাধারণ ও দরিদ্র নারী। সহজ-সরল জীবনযাপন আর অসহায় মানুষের সেবা করাই আমার নেশা। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন মানুষের পাশে থেকে সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য কাজ করে যেতে চাই।”
সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা মনে করেন, বাউল ছালমার এই সম্মাননা শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি গ্রামীণ লোকসংস্কৃতি, বাউলধারা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।