রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালেমাখচিত পতাকা হাতে নকলায় ছাত্র-জনতার বর্ণাঢ্য মিছিল দানাপাটুলি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জে শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে শুরু হলো ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ কার্যক্রম নালিতাবাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে ১১৯ বোতল ভারতীয় বিদেশি মদ উদ্ধার নেত্রকোনায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের আসর থেকে ১৫ জুয়াড়ি আটক, নগদ টাকা ও গাড়ি জব্দ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদ সফরে ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম হাওরে মাছ ধরা নিষিদ্ধে অভিযান, প্রায় ১৫টি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নারী চিকিৎসক হেনস্তার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবিতে চাঞ্চল্য হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের স্মারকলিপি প্রদান সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ

পাগলা মসজিদে নতুন ইতিহাস: দানবাক্সে মিলল ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৩৮ বার দেখা হয়েছে

কিশোরগঞ্জ, বাংলাদেশ – কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ আবারও এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে মসজিদের ১১টি দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ—৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। এই পরিমাণ টাকা পূর্বের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে, যা দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

পাগলা মসজিদের ইতিহাস শত বছরের পুরনো। এটি শুধু কিশোরগঞ্জ নয়, গোটা বাংলাদেশেই একটি আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক। এই মসজিদে দান করার বিষয়ে মানুষের এক গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। ধারণা করা হয়, এখানে দান করলে মনের বাসনা পূর্ণ হয়—এ বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে দান করে থাকেন।

নিয়মিত গণনা ও স্বচ্ছতা
মসজিদ কর্তৃপক্ষ সাধারণত প্রতি তিন মাসে একবার দানবাক্সগুলো খুলে গণনা করে। গণনার কাজ চলে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে। টাকা ছাড়াও দানবাক্সে পাওয়া যায় বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, এমনকি হাতঘড়িও।

বর্তমানে পাগলা মসজিদের রূপালী ব্যাংকে রাখা মোট দানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ৭৫ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৬ টাকা, যা দেশের অন্যান্য মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ব্যতিক্রমী।

ব্যয়ের খাত
মসজিদের দানে সংগৃহীত অর্থ শুধু মসজিদের সংস্কার ও পরিচালনাতেই ব্যয় হয় না, বরং তা সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে:

গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি

বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রকল্পে অনুদান

এতিমখানা ও হাসপাতালের সহায়তা

স্থানীয় জনগণের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা

আস্থার প্রতীক
পাগলা মসজিদ এখন কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু। প্রার্থনার পাশাপাশি দান-সাধনার মাধ্যমে এই মসজিদ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পাগলা মসজিদ প্রমাণ করেছে—বিশ্বাস, আস্থা এবং নিষ্ঠা থাকলে সাধারণ মানুষের ছোট ছোট অবদানও মিলিত হয়ে বিশাল পরিবর্তনের জন্ম দিতে পারে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর