শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দানাপাটুলি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জে শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে শুরু হলো ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ কার্যক্রম নালিতাবাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে ১১৯ বোতল ভারতীয় বিদেশি মদ উদ্ধার নেত্রকোনায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের আসর থেকে ১৫ জুয়াড়ি আটক, নগদ টাকা ও গাড়ি জব্দ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদ সফরে ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম হাওরে মাছ ধরা নিষিদ্ধে অভিযান, প্রায় ১৫টি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নারী চিকিৎসক হেনস্তার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবিতে চাঞ্চল্য হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের স্মারকলিপি প্রদান সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ কটিয়াদীতে তাহেরা নূর স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবনির্বাচিত সভাপতির সংবর্ধনা

মাদকদ্রব্য সেবন ও ব্যবসা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা: রৌমারীতে মাদক বিরোধী উদ্যোগ

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৪৮ বার দেখা হয়েছে

রৌমারী উপজেলা প্রতিনিধি আকাশ খান

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্য সেবন ও ব্যবসা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের উদ্যোগ দিন দিন বেড়ে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় রৌমারী উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার জন্য একটি সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে, জুমার নামাজের সময় রৌমারী উপজেলার সায়দাবাদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে মাদকদ্রব্য বিরোধী প্রচারণা পরিচালিত হয়। এই প্রচারণায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জনাব মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী এবং রৌমারী থানা অফিসার ইনচার্জ।

মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সামাজিক উদ্যোগ

মসজিদে জুমার নামাজ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ প্রভাব ও এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। জনাব মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী তার বক্তব্যে মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি মাদকের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে স্থানীয় জনগণকে আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি বলেন, মাদকাসক্তি পরিবার, সমাজ, ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়, যা প্রতিরোধ করা একান্ত প্রয়োজন।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জও তার বক্তব্যে মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মাদক সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে জনসাধারণকে উৎসাহিত করেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, যে কেউ মাদকব্যবসায়ীদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিবেন, তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং সুরক্ষা প্রদান করা হবে। এছাড়াও মাদক নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশ সজাগ রয়েছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত।

মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক দায়িত্ব

এই সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা সক্রিয়ভাবে মাদকের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নেন। মসজিদের মাধ্যমে মাদকবিরোধী সচেতনতার এই বার্তা সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মাদকবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে উপস্থিত বক্তারা মাদকের সাথে জড়িত ব্যক্তি ও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন ও সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস চালানোর কথাও উল্লেখ করেন।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

ইসলামিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষা তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সায়দাবাদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এই সভার মাধ্যমে তা পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাদকবিরোধী প্রচারণা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার দিক নয়, বরং সামাজিক আন্দোলন হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে। সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজস্ব জায়গা থেকে যদি মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে, তবে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে।

উপসংহার:

মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য রৌমারীর এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা যায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচালিত এই প্রচারণা রৌমারীসহ সারা বাংলাদেশে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে শক্তিশালী করবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর