নিউজ নগর | স্টাফ রিপোর্টার
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে “বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলা পুলিশ ব্যাপক পরিসরে বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ পালন করেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) কক্সবাজার জেলা পুলিশের উদ্যোগে জেলা পুলিশ লাইনসসহ জেলার সকল থানা প্রাঙ্গণে একযোগে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
কক্সবাজার জেলার মান্যবর পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারবৃন্দ, সহকারী পুলিশ সুপার, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে আম, কাঁঠাল, জাম, নিম, অর্জুন, কৃষ্ণচূড়া, মেহগনি, বকুলসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি মানুষ যদি অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করেন, তবে দেশ আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ সংরক্ষণেও বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের মাঝেও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং বৃক্ষরোপণে সবাই উৎসাহিত হন।

কর্মসূচিতে উপস্থিত কর্মকর্তারা গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি চারাকে বড় করে তোলার দায়িত্বও আমাদের সবার।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ আশা প্রকাশ করে, এই ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে আরও বেশি বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এমন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
সবুজে ঘেরা একটি নিরাপদ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের কাছেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে পুলিশের এমন সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মকাণ্ড জনমনে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।