স্টাফ রিপোর্টার আবুল বাশার
সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। তাঁর এই ছয় দিনের সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন নিশ্চিত করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মাননীয় এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব Mirza Fakhrul Islam Alamgir, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান Nurul Islam Moni, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়া বাংলাদেশের নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই দুই দেশের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী দেশটির প্রধানমন্ত্রী Anwar Ibrahim–এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। আলোচনায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় সম্প্রসারণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পাবে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping ও প্রধানমন্ত্রী Li Qiang–এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। এ সফরে বহুল আলোচিত তিস্তা বহুমুখী প্রকল্প, মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন, অবকাঠামো খাতে অর্থায়ন, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করার কৌশলগত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও এই সফরকে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, প্রবাসী কর্মসংস্থান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এই সফর নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের জনগণ প্রত্যাশা করছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।
**বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও কূটনৈতিক সাফল্যের প্রত্যাশায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করছি।**