সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের দাবি খেলাফত মজলিসের অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযান, আটক ২১ ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কারাবন্দি সাংবাদিকের মুক্তির দাবীতে মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের মানববন্ধন শাহবাগে ১৩ দফা শিক্ষাদাবিতে ছাত্র মজলিসের জাতীয় ছাত্র কনভেনশন ছাত্র সংগঠনের ৯০ শতাংশ কাজ হওয়া উচিত পড়াশোনাকেন্দ্রিক: মামুনুল হক 6 Reasons Ontario’s Fair-Play Casinos Prefer Interac Casino Payments Over Cards বন্দরে চাঁদা না পেয়ে দোকানদার নারীকে কুপিয়ে জখম ও লুটপাট, থানায় অভিযোগ

ভালোবাসার অনন্য নিদর্শন কমলা রানী দিঘি ‘বা সুতানাল দিঘি’।

  • আপডেট সময় : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৮১ বার দেখা হয়েছে

তানিম আহমেদ, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ভালোবাসার এক চিরন্তন নিদর্শন—ইতিহাসখ্যাত কমলা রানী দিঘি, যা স্থানীয়ভাবে সুতানাল দিঘি নামেও পরিচিত।প্রেম, ত্যাগ আর বিরহের গল্প বুকে নিয়ে এই দিঘি আজও মানুষের কাছে স্মৃতিচিহ্ন হয়ে আছে।

ইতিহাস বলে, মোগল আমলের স্থানীয় শাসক রাজা সামন্তলাল তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী কমলা রানীকে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের জন্য উপহার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন রাজা । তখন রানী বলেছিলেন—ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে এমন কিছু দান করুন, যা যুগ যুগ ধরে মানুষ মনে রাখবে ।

রাজা তখন সিদ্ধান্ত নিলেন অবিরাম এক রাত এক দিন সুতা কাটা হবে। আর সেই সুতার সমান দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মেপে খনন করা হয় দিঘি।রাজা সামন্তলাল ভালোবেসে ৬০ একরের এক দিঘি খনন করেছিলেন তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীর আবদার পূরণের জন্য। দীর্ঘদিন খননের পর বিশাল এই দিঘি তৈরি হলেও পানিশূন্য থেকে যায়। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েন রাজা ও রানী।

পরে কমলা রানী স্বপ্নে আদেশ পান—গঙ্গাপূজা ও নরবলি ছাড়া দিঘিতে পানি উঠবে না। কিন্তু তিনি নরবলি না দিয়ে মহাধুমধামে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গঙ্গামাতার পূজার আয়োজন করেন। পূজার সময় গঙ্গামাতার কাছে প্রার্থনা জানিয়ে তিনি বলেন—কোন মায়ের বুক খালি করে আমি নরবলি দেব? আমি সন্তানসম্ভবা, মাগো তুমি বর দাও।

হঠাৎ বজ্রপাতের শব্দে দিঘিতে পানি উঠতে শুরু করে। সবাই প্রাণে বাঁচলেও রানী আর বাঁচতে পারেননি। টইটুম্বুর জলে ভেসে গিয়ে তিনি তলিয়ে যান। এরপর থেকে এই দিঘি মানুষের কাছে ‘কমলা রানী দিঘি’ বা ‘সুতানাল দিঘি’ নামে পরিচিতি পায়।

আজও এলাকার প্রবীণরা বলেন, এটি শুধু একটি জলাধার নয়; বরং ভালোবাসা ও ত্যাগের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। যে নিদর্শন যুগ যুগ ধরে নতুন ভালোবাসার গল্পকে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর