শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দানাপাটুলি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জে শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে শুরু হলো ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ কার্যক্রম নালিতাবাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে ১১৯ বোতল ভারতীয় বিদেশি মদ উদ্ধার নেত্রকোনায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের আসর থেকে ১৫ জুয়াড়ি আটক, নগদ টাকা ও গাড়ি জব্দ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদ সফরে ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম হাওরে মাছ ধরা নিষিদ্ধে অভিযান, প্রায় ১৫টি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নারী চিকিৎসক হেনস্তার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবিতে চাঞ্চল্য হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের স্মারকলিপি প্রদান সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ কটিয়াদীতে তাহেরা নূর স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবনির্বাচিত সভাপতির সংবর্ধনা

ভালোবাসার অনন্য নিদর্শন কমলা রানী দিঘি ‘বা সুতানাল দিঘি’।

  • আপডেট সময় : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৫ বার দেখা হয়েছে

তানিম আহমেদ, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ভালোবাসার এক চিরন্তন নিদর্শন—ইতিহাসখ্যাত কমলা রানী দিঘি, যা স্থানীয়ভাবে সুতানাল দিঘি নামেও পরিচিত।প্রেম, ত্যাগ আর বিরহের গল্প বুকে নিয়ে এই দিঘি আজও মানুষের কাছে স্মৃতিচিহ্ন হয়ে আছে।

ইতিহাস বলে, মোগল আমলের স্থানীয় শাসক রাজা সামন্তলাল তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী কমলা রানীকে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের জন্য উপহার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন রাজা । তখন রানী বলেছিলেন—ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে এমন কিছু দান করুন, যা যুগ যুগ ধরে মানুষ মনে রাখবে ।

রাজা তখন সিদ্ধান্ত নিলেন অবিরাম এক রাত এক দিন সুতা কাটা হবে। আর সেই সুতার সমান দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মেপে খনন করা হয় দিঘি।রাজা সামন্তলাল ভালোবেসে ৬০ একরের এক দিঘি খনন করেছিলেন তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীর আবদার পূরণের জন্য। দীর্ঘদিন খননের পর বিশাল এই দিঘি তৈরি হলেও পানিশূন্য থেকে যায়। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েন রাজা ও রানী।

পরে কমলা রানী স্বপ্নে আদেশ পান—গঙ্গাপূজা ও নরবলি ছাড়া দিঘিতে পানি উঠবে না। কিন্তু তিনি নরবলি না দিয়ে মহাধুমধামে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গঙ্গামাতার পূজার আয়োজন করেন। পূজার সময় গঙ্গামাতার কাছে প্রার্থনা জানিয়ে তিনি বলেন—কোন মায়ের বুক খালি করে আমি নরবলি দেব? আমি সন্তানসম্ভবা, মাগো তুমি বর দাও।

হঠাৎ বজ্রপাতের শব্দে দিঘিতে পানি উঠতে শুরু করে। সবাই প্রাণে বাঁচলেও রানী আর বাঁচতে পারেননি। টইটুম্বুর জলে ভেসে গিয়ে তিনি তলিয়ে যান। এরপর থেকে এই দিঘি মানুষের কাছে ‘কমলা রানী দিঘি’ বা ‘সুতানাল দিঘি’ নামে পরিচিতি পায়।

আজও এলাকার প্রবীণরা বলেন, এটি শুধু একটি জলাধার নয়; বরং ভালোবাসা ও ত্যাগের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। যে নিদর্শন যুগ যুগ ধরে নতুন ভালোবাসার গল্পকে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর