নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র মাহে রমজান রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন—মাসজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি আর সিন্ডিকেটের কারসাজিতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, রমজানের প্রথম ১০ দিনে কাঁচামালের বাজার, দ্বিতীয় ১০ দিনে পোশাক বাজার এবং শেষ ১০ দিনে পরিবহন খাতে সক্রিয় হয়ে ওঠে আলাদা আলাদা সিন্ডিকেট।
🔹 প্রথম ১০ দিন: কাঁচামালের বাজারে অস্থিরতা
রমজানের শুরুতেই বাড়ে শাকসবজি, পেঁয়াজ, রসুন, ছোলা, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। বাজার তদারকি থাকলেও অনেক সময় তা কার্যকর হয় না বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
একজন ক্রেতা বলেন, “রমজান আসলেই যেন কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নেয়। আগের সপ্তাহের তুলনায় হঠাৎ করেই দাম বেড়ে যায়।”
🔹 দ্বিতীয় ১০ দিন: পোশাক সিন্ডিকেটের দাপট
ঈদকে সামনে রেখে রমজানের দ্বিতীয় দশকে জমে ওঠে পোশাকের বাজার। এ সময় শিশু ও নারীদের পোশাক, পাঞ্জাবি, জুতা, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেক দোকানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে পণ্য।
মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো বলছে, সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
🔹 শেষ ১০ দিন: পরিবহন খাতে নৈরাজ্য
রমজানের শেষ দশকে শুরু হয় ঘরমুখো মানুষের ঢল। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রায় প্রতিবছরই শোনা যায়। টিকিট সংকট, বাড়তি ভাড়া এবং যাত্রীদের হয়রানিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।
এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার নির্ধারিত ভাড়া এক রকম, কিন্তু বাস্তবে দিতে হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি।”
❗ প্রশাসনের ভূমিকা ও জনদাবি
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—রমজানজুড়ে কঠোর নজরদারি ও স্থায়ী সমাধান।
রমজান আত্মসংযম ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। অথচ এ মাসেই যদি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় বাজার অস্থিতিশীল করে তোলে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য তা হয়ে ওঠে এক কঠিন পরীক্ষা।
সচেতন মহল মনে করছে, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে রমজানের এই ‘তিন দশক–তিন সিন্ডিকেট’ চক্র ভাঙা সম্ভব।