বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কিশোরগঞ্জে আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ দিবস পালিত কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযান: কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ঘটনার বিচার দাবিতে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন নেত্রকোনায় পরকীয়ার জেরে ব্যবসায়ীকে হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড কাকরকান্দি ইউপি নির্বাচন ঘিরে মাঠে জনমুখী প্রচারণায় এগিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আবু শামা জাতীয় ক্রাইম সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন শেখ শাহীন কুড়িগ্রাম জেলায় বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘন্টায় ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ কিশোরগঞ্জে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস পালিত, মুক্ত সাংবাদিকতার পক্ষে জোর দাবি সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপির শপথ, সংসদে নতুন অধ্যায় স্পীকারের সঙ্গে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযান: কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন।

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার মোঃ শাহিনুর ইসলাম শাহিন

​ ৬ মে, ২০২৬
​কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে কিশোর অপরাধের লাগাম টানতে এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে বিশেষ অভিযানে নেমেছে জেলা পুলিশ। মূলত রাতের বেলায় শিক্ষার্থীদের অহেতুক আড্ডা বন্ধ এবং তাদের মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো মরণব্যাধি থেকে দূরে রাখাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
​পুলিশ জানায়, ইদানীং শহরের বিভিন্ন অলিগলি, বিশেষ করে লেকের পাড় ও নির্জন স্থানগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আড্ডা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নবম-দশম থেকে শুরু করে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা, যাদের বয়স সাধারণত ২০ বছরের আশেপাশে, তারাই এই অভিযানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। প্রশাসনের মতে, এই বয়সটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পড়াশোনা বাদ দিয়ে নির্জন স্থানে আড্ডা দেওয়া অনেক সময় তাদের মাদকাসক্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত করে।

​গতকাল রাতে পরিচালিত এই অভিযানে বেশ কিছু শিক্ষার্থী ও অহেতুক ঘুরে বেড়ানো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সন্দেহজনক ও অপ্রয়োজনীয় আড্ডায় লিপ্ত থাকা ব্যক্তিদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে:
​জরুরি সেবা: চিকিৎসা, প্রাইভেট পড়া বা কোনো যৌক্তিক কারণে বাইরে থাকা ব্যক্তিরা এই অভিযানের আওতামুক্ত ছিলেন।
​অভিভাবকদের ডাক: আটককৃতদের সরাসরি শাস্তি না দিয়ে তাদের অভিভাবকদের থানায় ডাকা হয়।
​মুচলেকা: ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যকলাপে না জড়ানোর অঙ্গীকার করে অভিভাবকরা মুচলেকা দিয়ে সন্তানদের ছাড়িয়ে নেন।

​রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় উপস্থিত হয়ে আটককৃত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন জেলা পুলিশ সুপার। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, “সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে—তা তদারকি করার দায়িত্ব পরিবারের। সন্তানের সাফল্যই একদিন বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

​পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিক ও সচেতন অভিভাবকরা। তারা মনে করছেন, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমাতে এ ধরনের অভিযান সময়োপযোগী। রাত ১২টার পর সকল অভিভাবক থানায় উপস্থিত হয়ে তাদের সন্তানদের বুঝে নেন এবং প্রশাসনের এই কড়াকড়িকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর