মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আরাফার ময়দানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আজও মানবতার দিশারি জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী, বাউফলে মতবিনিময় ও উপহার বিতরণ ঐতিহ্যের শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাত, নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা কটিয়াদীতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার মিঠামইনে পিকআপের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী ও শিশুসন্তান নিহত ঝিনাইদহে এনসিপি নেতা তারেক রেজা গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে এনসিপি নেতা তারেক রেজা গ্রেফতার ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ রাশেদ প্রধানের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হাসনাত আবদুল্লাহর অতিরিক্ত টোল আদায়ে দুই হাটের ইজারাদারকে জরিমানা ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ১ হাজার পরিবারে উপহার পৌঁছে দিলেন ফরহাদ হোসেন

আরাফার ময়দানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আজও মানবতার দিশারি

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে

প্রায় ১৪০০ বছর আগে আরাফার ময়দানে দাঁড়িয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির উদ্দেশ্যে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তা আজও বিশ্ব মানবতার জন্য ন্যায়, সাম্য ও মানবিক মর্যাদার এক অনন্য দিকনির্দেশনা হয়ে আছে।

বিদায় হজের ভাষণে মহানবী (সা.) ঘোষণা করেছিলেন—
“মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। আরব-অনারব, কালো-সাদা কেউ কারো চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি তাকওয়া।”

তিনি সুদকে হারাম ঘোষণা করে বলেন,
“প্রথম যে সুদ আমি বাতিল করছি, তা আমার নিজের পরিবারের।”
অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এই ঘোষণা আজও বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

মহানবী (সা.) আরও বলেন,
“আমানত ফিরিয়ে দাও, ঋণ শোধ করো।”
বিশ্বাস, ন্যায় ও দায়িত্ববোধের উপরই একটি সভ্য সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়— বিদায় হজের ভাষণে উঠে আসে সেই শিক্ষাও।

নারীর অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“স্ত্রীদের যেমন তোমাদের উপর অধিকার আছে, তেমনি তোমাদেরও তাদের উপর অধিকার আছে। তারা আল্লাহর আমানত, সম্পত্তি নয়।”
পারিবারিক সহিংসতা ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এটি ছিল এক শক্তিশালী মানবিক বার্তা।

শ্রমজীবী ও অধীনস্থদের অধিকার নিয়েও মহানবী (সা.) বলেন,
“তোমরা যা খাবে, তাদেরও তা খাওয়াও। তোমরা যা পরবে, তাদেরও তা পরাও।”
মানবিক শ্রমনীতি ও সামাজিক ন্যায়ের ক্ষেত্রে এই বাণী আজও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ধর্মীয় উগ্রতা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন,
“ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি করো না। জোরপূর্বক কাউকে ধর্মে টানবে না।”
সহনশীলতা ও শান্তির এই শিক্ষা আজকের বিশ্বে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

বিদায় হজের ভাষণে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। মহানবী (সা.) বলেন,
“কোনো পিতার অপরাধে পুত্র দায়ী নয়, পুত্রের অপরাধে পিতা নয়। প্রত্যেক মানুষ তার নিজের কর্মের জন্য দায়ী।”

আজ পবিত্র ইয়াওমুল আরাফা। বিশ্বের লাখো হাজী আরাফার ময়দানে অবস্থান করে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনা করছেন। মুসলিম উম্মাহর কাছে এই দিন আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য স্মারক।

আল্লাহ তায়ালা সকল হাজীর হজ কবুল করুন এবং আমাদের সবাইকে সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর