রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালেমাখচিত পতাকা হাতে নকলায় ছাত্র-জনতার বর্ণাঢ্য মিছিল দানাপাটুলি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জে শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে শুরু হলো ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ কার্যক্রম নালিতাবাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে ১১৯ বোতল ভারতীয় বিদেশি মদ উদ্ধার নেত্রকোনায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের আসর থেকে ১৫ জুয়াড়ি আটক, নগদ টাকা ও গাড়ি জব্দ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদ সফরে ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম হাওরে মাছ ধরা নিষিদ্ধে অভিযান, প্রায় ১৫টি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নারী চিকিৎসক হেনস্তার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবিতে চাঞ্চল্য হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের স্মারকলিপি প্রদান সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের কী কী করণীয়

  • আপডেট সময় : শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.): নবীজির শুভাগমনেই মানবতার নতুন আলোর সূচনা

ইয়া নাবী সালাম আলাইকা, ইয়া রসুল সালাম আলাইকা, ইয়া হাবিব সালাম আলাইকা, সালাওয়াতুল্লাহি আলাইকা।

আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্‌যাপন করছে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার সুবহে সাদিকের সময় বিশ্বজগতের জন্য রহমত হয়ে পৃথিবীতে আগমন করেন মানবতার মুক্তির মহান দূত হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর এ মহাপবিত্র আগমনই “ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)” নামে পরিচিত।

নবীজির আগমনেই পৃথিবী পেলো আলোর ঝলকানি

নবীজি (সা.)-এর জন্ম মুহূর্তেই তাঁর মা বিবি আমিনা (রা.) দেখেছিলেন এমন এক নূরের আলো, যার জ্যোতিতে সিরিয়ার রাজপ্রাসাদ পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়েছিল। (তাবারানি: হাদিস ১৫০৩৩, সহিহ ইবন হিব্বান: হাদিস ৬৪০৪)

আল্লাহতায়ালা নবীজির মাধ্যমে মানবজাতিকে হেদায়েতের আলো দান করেছেন এবং তাঁর ওপরই নাজিল করেছেন আসমানি গ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন। মহানবী (সা.) সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

“তোমরা বল, ‘তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর রহমতের কারণে আনন্দ প্রকাশ করো। নিশ্চয়ই এটি তাদের সঞ্চিত সবকিছুর চেয়ে উত্তম।’”
(সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৮)

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) এ আয়াতে “ফজল” ও “রহমত” বলতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আগমনকেই বোঝানো হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী হাদিস দ্বারা সমর্থিত

রাসুল (সা.) নিজেই প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন। কারণ হিসেবে বলেছেন:

“এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনে আমার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।”
(সহিহ মুসলিম: হাদিস ১১৬২)

এছাড়াও, হাদিস ও ইসলামি ইতিহাসে “মিলাদে রসুল (সা.)”-এর কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। জামে তিরমিজি (দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৩) ও ইমাম বায়হাকির ‘দালায়েলুন নবুয়ত’ (প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৯)-এ এ বিষয়ে স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে।

সাহাবিদের মধ্যেও ছিল মিলাদ উদ্‌যাপনের দৃষ্টান্ত

হজরত আবু দারদা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার রাসুল (সা.) হজরত আমির আনসারি (রা.)-এর ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি দেখতে পান, সাহাবি নিজ সন্তান ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে নবীজির জন্মদিনের কথা স্মরণ করে খুশি প্রকাশ করছেন, বিভিন্ন ঘটনা শোনাচ্ছেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার জন্য রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন।”
(দুররুল মুনাজ্জাম, সুবুলুল হুদা ফি মাওলিদিল মুস্তফা, ইমাম জালালউদ্দিন সুয়ূতি রহ.)

বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় ভাবগম্ভীরতায় উদ্‌যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মুসলিম সম্প্রদায় এ মহান দিবসটি উপলক্ষে আয়োজন করছে কোরআন তিলাওয়াত, নাতে রাসুল, মিলাদ মাহফিল, দান-সদকা ও আনন্দ শোভাযাত্রা। বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

ঈদে মিলাদে নেয়া হোক নবীজির আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকার

এ পবিত্র দিবসে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আমাদের কর্তব্য হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের আদর্শকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা। তাঁর শিক্ষা—মানবতা, দয়া, ইনসাফ, দানশীলতা, ন্যায়ের পথে অটল থাকা—এসবই হোক আমাদের পথচলার পাথেয়।

আসুন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর বরকতময় দিনে আমরা নফল রোজা পালন করি, দান-সদকা করি, গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়াই। নিজের পরিবার, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের নবীজির জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানাই এবং তারই আলোকে সমাজ গড়ি।

আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের সবাইকে প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শে জীবন গড়ার তাওফিক দান করেন।

আমিন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর