বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতা গড়ে তোলাই ছাত্র সংগঠনের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। তার মতে, একটি আদর্শ ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রমের বড় অংশই হতে হবে পড়াশোনাকেন্দ্রিক; মাঠ-ময়দানের কর্মসূচি থাকা উচিত সীমিত পরিসরে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় আর্কাইভ মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পশ্চিম আয়োজিত ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসকে কেবল সংগঠন, রাজনীতি কিংবা আন্দোলনভিত্তিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে যে ধরনের দায়িত্ব পালন করতে চান, সেই দায়িত্বের প্রয়োজনীয় মৌলিক যোগ্যতা ছাত্রজীবনেই অর্জন করা জরুরি। ছাত্রজীবনে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাই পরবর্তী কর্মজীবনের ভিত্তি তৈরি করে।
ছাত্রজীবন ও কর্মজীবনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মাতৃগর্ভ থেকে যেমন মানুষকে প্রয়োজনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে পৃথিবীতে আসতে হয়, তেমনি কর্মজীবনে সফল হতে প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতাও ছাত্রজীবনেই গড়ে তুলতে হয়। এ সময় অর্জন করা সম্ভব না হলে পরবর্তী সময়ে অনেক ক্ষেত্রে সেই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি শিক্ষাজীবন থেকেই শুরু করা প্রয়োজন। যারা ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে দায়িত্ব নিতে চান, তাদের সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নেতৃত্বগুণ ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
মামুনুল হক আরও বলেন, জ্ঞান ও গবেষণার মাধ্যমে জাতিকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই পথে সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে যোগ্য নেতৃত্বও দরকার। এজন্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়ায় ছাত্রজীবনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডের ধরন নিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ রাজনৈতিক সংগঠনের মতো ছাত্র সংগঠনকে সবসময় মাঠকেন্দ্রিক কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, জ্ঞানচর্চা, দক্ষতা অর্জন ও নেতৃত্বের প্রস্তুতিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, একটি আদর্শ ছাত্র সংগঠনের ৯০ শতাংশ কাজ পড়ার টেবিলকেন্দ্রিক এবং সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কার্যক্রম মাঠ-ময়দানে থাকা উচিত।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক বিষয়ের বিকল্প পাওয়া গেলেও জ্ঞান ও ইলমের বিকল্প নেই। নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ার আগেই নিজেকে জ্ঞান ও দক্ষতার দিক থেকে প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে মামুনুল হক তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র মজলিসের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি আদনান রাফীর সভাপতিত্বে প্রধান আলোক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সল আহমাদ, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি সাইদ আহমাদ, লেখক ও আলোচক মাওলানা আবু নাইম ফয়জুল্লাহ এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা জাকারিয়া আল ফারুকিসহ অন্যরা।