রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালেমাখচিত পতাকা হাতে নকলায় ছাত্র-জনতার বর্ণাঢ্য মিছিল দানাপাটুলি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জে শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে শুরু হলো ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ কার্যক্রম নালিতাবাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে ১১৯ বোতল ভারতীয় বিদেশি মদ উদ্ধার নেত্রকোনায় ষাঁড়ের লড়াইয়ের আসর থেকে ১৫ জুয়াড়ি আটক, নগদ টাকা ও গাড়ি জব্দ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদ সফরে ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম হাওরে মাছ ধরা নিষিদ্ধে অভিযান, প্রায় ১৫টি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নারী চিকিৎসক হেনস্তার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবিতে চাঞ্চল্য হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের স্মারকলিপি প্রদান সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশ

মুরাদনগরে ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমি কাটার অভিযোগ প্রভাবশালী মনির ;পারভেজের ও হেলালের বিরুদ্ধে।

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩৩ বার দেখা হয়েছে

 

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পূর্বধৈর পশ্চিম ইউনিয়নের এলখাল গ্রামে ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমি কেটে মাটি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মনির সরকারের বিরুদ্ধে। একই গ্রামের ড্রেজার মালিক পারভেজ মিয়া ; যুবদল নেতা মালিপাড়ার হেলাল এবং নদিয়াবাদ গ্রামের আজাদ ; জাকির কে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন সেখানের খেটে খাওয়া মানুষ ও কৃষকরা।

স্থানীয়দের দাবি, নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এলাকার কৃষকদের উর্বর জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি তুলে নিজেদের মত করে বিক্রি করছে তারা।
এতে হেক্টরের পর হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে এসব জমিতে চাষাবাদ নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা।

এ ঘটনায় স্থানীয় আরেক প্রভাবশালী ব্যক্তি জয়নাল আবেদিন মোল্লার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে বলে জানা গেছে। তবে জয়নাল আবেদিন মোল্লা এসব কাজে নিজে জড়িত নয় বলে দাবি করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিলের আবাদি জমিতে ড্রেজার চালিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। খণ্ড খণ্ড করে বিলের বুক চিরে গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জমি কেটে বড় বড় খাদে পরিণত করা হয়েছে সেখানে।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের অভিযানের খবর পেলেই ড্রেজার বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় সংশ্লিষ্টরা। আবার অভিযান শেষ হলে রাত-দিন আবারো এসব অপকর্ম শুরু করেন তারা। তাদের ভয়ে স্থানীয়রা কোন প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, এলখাল গ্রামের এসব জমি অত্যন্ত উর্বর। প্রতিবছর এসব জমিতে ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের আবাদ হয়। কিন্তু অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় গভীর গর্ত তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি না থাকায় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় অবৈধভাবে মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মনির হুসেন বলেন, এখানে মাটি কাটার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। শুনেছি আগে ড্রেজার চলছিল, তবে এখন বন্ধ আছে। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব, যদি ড্রেজার চলে সেটাও বন্ধ করে দেব।

ড্রেজার মালিক পারভেজ মিয়া প্রথমে বলেন, ড্রেজার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তারা আর এটি চালান না। পরে আবার তিনি নিজেকে ড্রেজারের মালিক নন বলেও দাবি করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী জয়নাল আবেদিন বলেন, ফসলি জমি কেটে মাটি নিয়ে যাওয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমনি এসব অবৈধ কাজ এলাকার জন্যও ক্ষতিকর। আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই। বরং আমরা আগেও কয়েকটি ড্রেজার ভেঙে দিয়েছি। আবার বসালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, কিছুদিন আগে তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ড্রেজার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ ড্রেজার বসালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি দরকার।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর