রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন

সারাদেশে এবার অনুমতি নামক বাঁধা ছাড়াই হচ্ছে ইসলামিক ওয়াজ মাহফিল।

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৬১ বার দেখা হয়েছে

যাদুরচরে তাফিজুল কুরআন একাডেমীর উদ্যোগে প্রথম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত

আকাশ খান (জেলা প্রতিনিধি)

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের চর লাঠিয়াল ডাঙ্গা গ্রামে তাফিজুল কুরআন একাডেমী নূরানী হাফিজিয়া ও মহিলা মাদ্রাসার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য ওয়াজ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বার্ষিকী, যেখানে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। মাহফিলে ইসলামিক বক্তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে বিভিন্ন নৈতিক বার্তা প্রদান করেন এবং ইসলামিক শিক্ষার গুরুত্বের ওপর বিশেষ দিকনির্দেশনা দেন।

এই মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যাদুরচর ইউনিয়নের বাংলাদেশ জামাত ইসলামের সভাপতি আলহাজ্ব ক্বারী মোঃ আলী আক্কাবর। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর স্বৈরাচারের কারাগারে বন্দি থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে মুক্ত বাতাসে স্বাধীনতার স্বাদ নিয়ে কথা বলার তৌফিক দান করেছেন।” তিনি আরো উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট সরকারের অত্যাচার থেকে আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করেছেন এবং আমাদের দায়িত্ব হলো স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করা।

আলহাজ্ব আলী আক্কাবর তাঁর বক্তব্যে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের ঘটনাকে “স্বাধীনতার দিন” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে এবং জালিম সরকারকে আর যেন ক্ষমতায় না আসতে পারে এ ব্যাপারে আমাদের দৃঢ়প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।” তার এই বক্তব্য উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে একটি নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

মাহফিলের বিভিন্ন বক্তারা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জন্য ইসলামিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাফিজুল কুরআন একাডেমী ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাগণ তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মূলত শিশু-কিশোরদের মাঝে কুরআনের শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নূরানী হাফিজিয়া শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে কুরআনের আলো সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে চান তাঁরা।

মাহফিল শেষে উপস্থিত সকলের জন্য বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় আল্লাহর কাছে মুনাজাত করা হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা এই মাহফিলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলিও উঠে এসেছে। মাহফিলে বক্তাদের বক্তব্য শুনে স্থানীয় জনগণ ইসলামিক শিক্ষা ও মানবিকতা চর্চার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেন।

তাফিজুল কুরআন একাডেমী নূরানী হাফিজিয়া ও মহিলা মাদ্রাসা স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষার একটি আলোকিত কেন্দ্র হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এবং এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে জনসেবায় নিয়োজিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর