শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এ উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা নির্বাচিত ১০২ জন শিক্ষককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সম্মান আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারের ওপর গুরুত্ব দেন। শিক্ষকদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাকে আনন্দময় করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে। যারা বিভিন্ন কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে, তাদের জন্য কর্মসংস্থানমুখী সুযোগ তৈরির বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
শিক্ষকতা পেশাকে মেধাবীদের অন্যতম প্রধান পছন্দের পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষক কর্মজীবনে থাকুন কিংবা অবসর গ্রহণ করুন—তাঁর মহান পেশার কারণে তিনি রাষ্ট্রের কাছে আজীবন সম্মানের দাবিদার। শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা পেতে যাতে অযথা সরকারি দপ্তরে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে জন্য নির্ধারিত সময়ে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে শিক্ষকরা অন্যতম প্রধান শক্তি। তাঁদের অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের শিক্ষক সমাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানান প্রধানমন্ত্রী।