কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি/মোঃ আল আমিন
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে চাঞ্চল্যকর হানিফ মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর এলাকার লস্কর মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (৪০) এবং তার ছেলে মো. সজিব মিয়া (২০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর থানার এফআইআর নং-০৭, তারিখ ১৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় হানিফ মিয়া হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার ও প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় যুবসমাজ এলাকায় মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছিল। নিহত হানিফ মিয়াও এ বিষয়ে স্থানীয় যুবসমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, জাকির হোসেন মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ঘটনায় হানিফ মিয়া পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন—এমন সন্দেহে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার দিন ১৩ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হানিফ মিয়া তার স্ত্রীকে জানান, আসামি আনোয়ার হোসেন ফোন করে তাকে জাকির হোসেনের বাড়িতে যেতে বলেছেন। পরে রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে হানিফ মিয়া তার স্ত্রীকে ফোন করলে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাকে বলতে শোনা যায়, “জাকির ভাই, তুমি আমারে আর মাইরো না, আমাকে প্রাণ ভিক্ষা দাও।” এরপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের সদস্যরা জাকির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে বাড়ির ভেতর থেকে হানিফ মিয়ার চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনতে পান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে নিহতের শ্বশুর বকুল মিয়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে আয়েতউল্লাহ নামে একজনকে সিলিংয়ের ওপর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে।
পরে রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে আসামিদের বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে জসিম উদ্দিনের কাঠবাগানের জমিতে হানিফ মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে কুলিয়ারচর থানায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।