নিউজনগর প্রতিবেদন:
আজ ১৫ অক্টোবর, বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন করা হয়। এরপর থেকে দিবসটি মানুষকে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে আসছে।
আমাদের প্রতিদিনের নানা কাজের মাধ্যমে হাতে জীবাণু জমতে পারে। অপরিষ্কার হাতে খাবার খাওয়া, খাবার তৈরি করা কিংবা চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করার ফলে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, সাবান ও পানি দিয়ে সঠিকভাবে হাত ধোয়া ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর একটি সহজ, কার্যকর ও সাশ্রয়ী উপায়। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সুস্থ রাখতেও হাত ধোয়ার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। যেমন—
শুধু পানিতে হাত ভিজিয়ে নিলেই হাত পরিষ্কার হয় না। হাতের তালু, হাতের পিঠ, আঙুলের ফাঁক, নখের চারপাশ এবং বুড়ো আঙুল ভালোভাবে সাবান দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় অন্তত ২০ সেকেন্ড সময় নেওয়া উচিত। এরপর পরিষ্কার প্রবাহমান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে পরিষ্কার তোয়ালে বা উপযুক্ত উপায়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
শিশুরা পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শেখে। তাই বাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের সঠিক নিয়মে হাত ধোয়া শেখানো জরুরি। বিশেষ করে খাবারের আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর হাত ধোয়ার অভ্যাস তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে হবে।
হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি, সাবান এবং পরিচ্ছন্ন হাত ধোয়ার স্থান নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার ও কর্মস্থলে এসব সুবিধা সহজলভ্য হলে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা সহজ হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭০ কোটি মানুষ বাড়িতে মৌলিক হাত ধোয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এই পরিসংখ্যান নিরাপদ পানি ও পরিচ্ছন্নতার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে।
বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের মূল বার্তা হলো—পরিচ্ছন্ন হাত, সুস্থ জীবন। হাত ধোয়ার অভ্যাস ছোট হলেও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর গুরুত্ব অনেক। নিজে সচেতন হওয়া, পরিবারের সদস্যদের উৎসাহিত করা এবং আশপাশের মানুষকে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার বিষয়ে জানানো সবার দায়িত্ব।
আসুন, বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞা করি—প্রয়োজনীয় প্রতিটি সময়ে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে সঠিকভাবে হাত ধোব এবং অন্যদেরও এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করব।
সচেতন হই, পরিচ্ছন্ন থাকি, সুস্থ জীবন গড়ি।